করোনা পরিস্থিতে নানান মুখী চাপে বর্তমান সরকার

করোনা পরিস্থিতে নানান মুখী চাপে বর্তমান সরকার

দেশে করোনা সংক্রমণের হার বেড়েই চলছে। এরপরও সর্বাত্মক লকডাউন এর কঠোর বিধিনিষেধ ধরে রাখতে পারছে না সরকার। এদিকে

সচিবদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মতানৈক্য। বেশ কয়েকজন সচিব চান, লকডাউন কিছুটা ঢিলেঢালা  রেখে মানুষকে জীবন-জীবিকার সুযোগ দিতে

হবে। আবার কিছু মন্ত্রাণালয়ের সচিব চান, কঠোর বিধিনিষেধ কারযকর করতে হবে। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যেও কাজ করছে দ্বিধাদ্বন্দদ্ব।

করোনা পরিস্থিতে নানান মুখী চাপে বর্তমান সরকার|

পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা চালু রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা নানাভাবে সরকারে কে চাপ দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি ২২ এপ্রিল থেকে বাজার ও দোকান খোলার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ রোধে কঠোর সর্বাত্মক লকডাউন এর বিকল্প নাই। সব মিলিয়ে কঠোর সর্বাত্মক লকডাউন নিয়ে নানান মুখী চাপে

পড়েছে সরকার। মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়. কঠোর ও ঢিলেঢালা লকডাউন নিয়ে মতানৈক্য থাকলেও সব সচিব্ই লকডানের বিষয়ে একমত। তাই লকডাউন আরও এক সপ্তাহ

বাড়তে পারে। কারণ গত বছরের পর একপরযায়ে করোনার সংক্রমণ কমেও গিয়েছিল। কিন্ত গত মার্চ মাস থেকে করোনার সংক্রমণ আবারও

বাড়ছে। করোনা পরিস্থিতে নানান মুখী চাপে বর্তমান সরকার|

পরপর দুদিন করোনায় সংক্রমিত হয়ে ১০১ জন করে মারা হেছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিকল্পনা হলো, চলমান লকডাউন আরও সাত দিন বাড়িয়ে এরপর আবার শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন  বিধিনিষেধ দিয়ে চলা।

এভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর পরযন্ত চলা। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শুরু হওয়া লকডাউন বাড়বে কিনো, সে বিষয়ে সোমবার বৈঠক করা হবে। সেখানে

পুনর্মূল্যায়নের পর সিদ্ধান্ত হবে। চলমান লকডাউনের বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেখি. এখন কি অবস্থা হয়।

সোমবার সবাই আলোচনা করে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে। করোনা পরিস্থিতে নানান মুখী চাপে বর্তমান সরকার|

একাধিক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চলকান লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ সময়ে কি করা যাবে আর কি

করা যাবে না, তা  ‍সুস্পষ্ট করা হয়েছিল। কিন্ত এর ফলে মানুষের জীবন-জীবিকা কিভাবে পরিচালিত হবে , সে বিষয়ে আলোচনা হয়নি। এখন দেখা

যাচ্ছে, মানুষকে ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না ।

কারণ, এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও গরিব মানুষের আয়ের উৎস জড়িত।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কারযালয় থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়। মাঠ পরযায়ে এসব  নির্দেশানার বেশির

ভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর গত ৫ থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পরযন্ত চলাচল ও কাজে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার । এই বিধিনিষেধে ব্যবসায়ীদের

চাপে ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্ন্ত দোকানপাট ও শপ্যিশল খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর পর ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা

করা হয়।

সর্বাত্মক লকডাউন চতুর্থ দিন ছিল গতকাল। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ছিল ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড়। প্রায় সব সড়কেই ছিল রিকশা আর

ব্যাটিারিচালিত অটোরিকশা। সিএনজি চালিত  অটোরিকশা আর ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল এর চলাচরও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাস ট্রেন

এর মত গণপরিবহন না থাকলেও বাকি সবই যেন স্বাভাবিক হয়ে পড়ছে। ঢাকার অলিগলি আর পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে. সর্বাত্মক লকডাউন

এর কারযক্রম ঢিলেঢালা হয়ে পড়ছে। করোনা পরিস্থিতে নানান মুখী চাপে বর্তমান সরকার|

দোকানপাট খোলা. জীবনযাত্রাও কারয স্বাভাবিক।

দোকান খুলতে চান ব্যবসায়ীরা : প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া দোকন মালিক সমিতির চিঠিতে বলা হয়েছে, গত বছর লকডাউনে ব্যবসায়ীদের ছয় থেকে

সাত হাজার কোটি টাকার পুজি নষ্ট হয়েছে। এ বছরও ব্যবসায়ীরা রমজান ও ঈদে কিছুটা ব্যবসার আসায় ২০-২২ হাজার কোটি টাকা  বিনিয়োগ

করেছেন। কিন্ত আকস্মিকভাবে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষনা করায় তারা গত বছরের মতো পুজি হারানোর ঝুকিতে পড়েছেন। এ অবস্থায় সীমিত

পরিসরে ব্যবসা করার সুযোগ না দিলে তার পুজি হারিয়ে সর্বসান্ত হয়ে যাবেন।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *