জিয়া এরশাদের সেই বিচ্ছু শামসু এখন আংগুল ফুলে কলাগাছ

জিয়া এরশাদের সেই বিচ্ছু শামসু এখন আংগুল ফুলে কলাগাছ

জিয়াউর রহমানের ক্ষমতাকালে ‍উত্থান শামসুল হক চৌধুরী ওরফে বিচ্ছু শামসু এরশাদের শাসনামলে দাপুটে হয়ে ওঠেন। আর বর্তমানে আওয়ামী

লীগ সরকার আমলে হয়েছেন আংগুল ফুলে কলাগাছ।  তবে সব সরকার আমলেই আওয়ামী নিধনের দক্ষতায় “পারদর্শী” ছিলেন তিনি, একই চরিত্রে

বহাল আছেন এখনো। জিয়ার হাত ধরে জাতীয়তাবাদী যুবদলে নাম লিখিয়েই ছাত্রলীগ আর যুবলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা পড়েছিলেন।

এরশাদ সরকার আমলে জাপা ক্যাডার হিসেবে শামসুল হক চৌধুরীর দৌড়ঝাপ পটিয়া থেকে চট্রগাম মহানগর পরযায়ে বিস্তৃত পায়। জিয়া

এরশাদের সেই বিচ্ছু শামসু এখন আংগুল ফুলে কলাগাছ।

একজন ব্যক্তি এতো সুযোগ পায় কিভাবে?

সে সময় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের টার্গেট করে বেশুমার নিধনযঞ্জ চলে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগের

ত্যাগী নেতাদের। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথম দফায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই চাম ড়া বাচাতে ভোল পাল্টে আবাহনী ক্রীড়া  চক্রে

নাম লেখানোর মধ্য দিয়ে দলে ঢুকে পড়েন তিনি।  অল্প সময়েই কূটকৌশল খাটিয়ে, হিংস্রতা পুজি করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরযায়ে পৌছে যান।

এজন্য দলটির যে পরযায়ের নেতা-কর্মীকেই তিনি বাধা মনে করছেন তাকেই কৌশলী মামলা হামলায় সরাতে বিন্দু মাত্র দ্বিধা করেননি।

পটিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে যাত্রা করা শামসুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বরাবরই দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাটের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে,

তদন্তও হয়েছে দফায় দফায়। যথারীতি দুর্নীতি দমন কমিশনের নোটিসও হয়েছে তার নামে।

কিন্ত কিছুতেই কিছু হয়নি তার।

সব অভিযোগ ছাইচাপা দিয়ে তিনি তরতর করে উঠে গেছেন ওপরের দিকে। তার নির্বাচনী এলাকা পটিয়ায় হেন কাজ নেই যা তিনি ও তার

পরিবারের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত হয়নি। বেপরোয়া দখলবাজি, চাদাবাজি, হয়রানি, অত্যাচার, নিয়োগ বাণিজ্য থেকে কমিশন বাণিজ্য পরযন্ত

সবকিছুর সং্গেই তার পরিবারের সদস্যরাই আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছেন।  এসব নিয়ে বারবারই তিনি বিতর্কিত হয়েছেন, ক্ষোভ, অসন্তোষ সৃষ্টি

হয়েছে খোদ দলীয় ফোরামেও। কিন্ত কোন কিছুেই তোয়াক্কা করেননি তিনি।

সেনাশাসক জিয়ার মুখেই খেতাব পাওয়া ‘বিচ্ছু শামসু’ কীভাবে যুবদলের থানা নেতা থেকে পরে সেন্শাসক এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে

বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখেন সেসব কথা ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মখে মুখে ছড়িয়ে আছে। সে সময়

আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলা চালানের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রভাবশালী নেতা বনে যাওয়ায় ত্যাগী নেতা-কর্মীর অনেকেই

ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিচ্ছু শামসুর অন্তরে বিএনপি- জাতীয় পার্টি মুখে মুখে তিনি আওয়ামী লীগার।

১০৮০ সালে যখন হকার নেতা ছিলেন, টাইপ মেশিন চুরির অপরাধে গ্রেফাতার হয়ে ১৭ দিন কারাভোগ করেন।

চট্রগ্রামের ডেইলি লাইফ পত্রিকায় এ খবর প্রকাশ হয়েছিল তখন। পরে বিএনপির যুবদল হয়ে জাতীয় পার্টির যুবসংহতিতে যোগ দেন। ওই সময়

নিউমার্কেট মোড়ে আওয়ামী লীগের মিটিং পন্ড করার জন্য বোম হামলা চালান দলবল নিয়ে। রাজনীতিতে বারবার জার্সি পাল্টানো শামসুল হক

চৌধুরী সর্বশেষ আবাহনী ক্রীড়া চক্রের মাধ্যম হয়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। জিয়া এরশাদের সেই বিচ্ছু শামসু এখন আংগুল ফুলে কলাগাছ।

দলে নিজের কিছুটা শক্তপোক্ত অবস্থান সৃষ্টি করেই তিনি মেতে ওঠেন পুরনো খেলায়। আওয়ামী লীগের মূলধারার নেতা-কর্মীদের দুরে ঠেলে

জামায়াত, বিএনপি ও হাইব্রিডদের কাধে ভর করে তিনি আবারও নেমে পড়েন আওয়ামী লীগ নিধনের মিশন নিয়ে। তার দখলদারি. আগ্রাসন ও

দাম্ভিকতার শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগের হাজারো নেতা-কর্মী-সমর্থক। পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ. যবলীগ ও ছাত্রলীগের মুলধারার নেতা-

কর্মীদের বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে কোণঠাসা করে রেখেছেন। এসব নিয়ে ছাইচাপা আগুন রয়েছে নেতা-কর্মীদের মনে। ক্ষোভ, অসন্তোষ,

বিরক্তিতে অনেকে রাজনীতির অঙ্গন থেকেই নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। জিয়া এরশাদের সেই বিচ্ছু শামসু এখন আংগুল ফুলে কলাগাছ্।

দুদকসূত্রে জানা যায়. চট্রগ্রামের আবাহনী ক্লাব থেকে গত পাচ বছরে শামসুল হক আয় করেছেন কয়েক শ কোটি টাকা।

ঠিক এমনই একটি বিষয়ে ফেসবুকে পোষ্ট করেন একজন পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদ সাইফুল আমিন। পরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে

মামলা করেন হুইপ শামসুল হক চৌধুরী। চট্রগ্রামের বিভিন্ন ক্লাব থেকে ক্যাসিনোর মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহিভূত সম্পদ অর্জনে শামসুল হক চৌধুরীর

প্রধান সহযোগী  ও তার কথিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পি  এ) নুর উর রশীদ চৌধুরী ওরফে এজাজ চৌধুরীকে গত বছরের ২১ জানুয়ারী দুদক প্রধান

কারযালয়ে টানা ছয় ঘন্টা জিঞ্জাসাবাদ করা হয়।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *